তাওহীদের অর্থ ও প্রকারভেদ

প্রশ্ন: 49030

তাওহীদ অর্থ কী? এর প্রকারগুলো কী কী?

উত্তরের সার-সংক্ষেপ

তাওহীদ হচ্ছে: যা কিছু আল্লাহর জন্য খাস সেগুলো তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করা; তথা উলূহিয়্যাহ (উপাস্যত্ব), রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব) এবং নাম ও গুণাবলি। আলেমরা তাওহীদকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্বে এককত্ব), তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ (উপাস্যত্বে এককত্ব) এবং তাওহীদে আসমা ওয়াস-সিফাত (নাম ও গুণে এককত্ব)।

উত্তর

তাওহীদ পরিচিতি

আভিধানিক অর্থ: توحيد (তাওহীদ) শব্দটি وحّد يوحِّد ক্রিয়ার মাসদার। এ ক্রিয়া থেকে সৃষ্ট اسم فاعل হলো مُوَحِّدٌ (মুওয়াহ্‌হিদ)। মুওয়াহ্‌হিদ হলো: যে ব্যক্তি আল্লাহর এককত্ব সাব্যস্ত করেন এবং সত্তায় কিংবা গুণাবলিতে আল্লাহ নিরঙ্কুশ বা সাদৃশ্য মুক্ত হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করেন। শব্দটিতে তাশদীদ (ّ) ব্যবহার করা হয়েছে আধিক্য বোঝানোর জন্য, অর্থাৎ আল্লাহকে এক সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অতিশায়ন।

আরবরা বলে: واحد, أحد এবং وحيد যার অর্থ একক। আল্লাহ তায়ালা এক। অর্থাৎ সর্বাবস্থায় কোনো ধরনের সমকক্ষ ও সদৃশ থেকে পবিত্র। তাওহীদ হচ্ছে আল্লাহকে এমন একক সত্তা হিসেবে জানা যার কোনো নজির নেই। যে ব্যক্তি আল্লাহকে এভাবে চিনবে না কিংবা আল্লাহকে নিরঙ্কুশ হিসেবে বিশেষিত করবে না সে তাওহীদবাদী (মুওয়াহ্‌হিদ) নয়।

তাওহীদের পারিভাষিক সংজ্ঞা হলো: যা কিছু আল্লাহর জন্য খাস সেগুলো তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করা; তথা উলূহিয়্যাহ (উপাস্যত্ব), রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব) এবং নাম ও গুণাবলি।

সংজ্ঞাটি এভাবেও বলা যায়: আল্লাহর রুবুবিয়্যাহ, উলুহিয়্যাহ এবং নাম-গুণাবলিতে তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই এই বিশ্বাস স্থাপন করা।

কুরআন ও সুন্নাহ-তে তাওহীদ

উক্তরোক্ত অর্থ বোঝানোর জন্য তাওহীদ পরিভাষাটি কিংবা এর থেকে উদ্ভুত শব্দের ব্যবহার কুরআন-সুন্নাহতে সাব্যস্ত। যেমন:

আল্লাহর বাণী:

قُلۡ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ (1) ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ (2) لَمۡ يَلِدۡ وَلَمۡ يُولَدۡ (3) وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدُۢ (4) .

“বলুন, তিনিই সেই আল্লাহ যিনি এক। আল্লাহ, সবাই যার মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি। তাঁর সমকক্ষ আর কেউই নেই।”[সূরা ইখলাস]

আল্লাহ বলেন:

وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لا إِلَهَ إِلا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ

“তোমাদের উপাস্য একজনই। তিনি ছাড়া সত্য অন্য কোনো উপাস্য নেই। তিনি করুণাময়, দয়ালু।”[সূরা বাকারা: ১৬৩]

আল্লাহর বাণী:

لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلاثَةٍ وَمَا مِنْ إِلَهٍ إِلا إِلَهٌ وَاحِدٌ وَإِنْ لَمْ يَنْتَهُوا عَمَّا يَقُولُونَ لَيَمَسَّنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

“নিশ্চয় তারা কাফের যারা বলে আল্লাহ তিনজনের একজন। অথচ এক উপাস্য ছাড়া কোন উপাস্য নেই। যদি তারা যা বলছে তা থেকে নিবৃত্ত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কুফরীতে অটল থাকবে তাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি পাকড়াও করবে।”[সূরা মায়েদা: ৭৩] এ প্রসঙ্গে আয়াতের সংখ্যা অনেক।

عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: لَمَّا بَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ إِلَى نَحْوِ أَهْلِ الْيَمَنِ قَالَ لَهُ: إِنَّكَ تَقْدَمُ عَلَى قَوْمٍ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَى أَنْ يُوَحِّدُوا اللَّهَ تَعَالَى فَإِذَا عَرَفُوا ذَلِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ قَدْ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِهِمْ وَلَيْلَتِهِمْ فَإِذَا صَلَّوْا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ زَكَاةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ غَنِيِّهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فَقِيرِهِمْ فَإِذَا أَقَرُّوا بِذَلِكَ فَخُذْ مِنْهُمْ وَتَوَقَّ كَرَائِمَ أَمْوَالِ النَّاس .ِ[رواه البخاري (7372) ومسلم (19)]

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুয়ায ইবনে জাবালকে ইয়েমেন অভিমুখে পাঠান তখন তাকে বলেন: “তুমি আহলে কিতাবদের একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। অতএব, তাদের প্রতি তোমার প্রথম দাওয়াত হবে- তারা যেন আল্লাহ্‌র তাওহীদ (একত্ববাদ) মেনে নেয়। যখন তারা তাওহীদের স্বীকৃতি দিবে তখন তাদেরকে জানাবে যে, আল্লাহ দিনে-রাতে তাদের প্রতি পাঁচবার নামায পড়া ফরয করে দিয়েছেন। যখন তারা নামায আদায় করবে তখন তুমি তাদেরকে জানাবে যে, আল্লাহ তাদের ধন-সম্পদের যাকাত দেয়া ফরয করেছেন। যেটা তাদেরই ধনীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদেরই দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। যখন তারা যাকাতের স্বীকৃতি দিবে তখন সেটি তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করবে। তবে মানুষের ধন-সম্পদের উত্তম অংশ গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থাকবে।”[সহিহ বুখারী (৭৩৭২) ও সহিহ মুসলিম (১৯)]

عن ابن عمر رضي الله عنه عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: بُنِيَ الإِسْلامُ عَلَى خَمْسَةٍ: عَلَى أَنْ يُوَحَّدَ اللَّهُ، وَإِقَامِ الصَّلاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَصِيَامِ رَمَضَانَ وَالْحَجِّ .[رواه مسلم (16)]

ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘ইসলাম পাঁচটি খুঁটির উপর স্থাপিত: আল্লাহর তাওহীদ সাব্যস্ত করা, নামায কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানে রোযা রাখা এবং হজ্জ করা।’[সহিহ মুসলিম (১৬)]

এই সমস্ত আয়াত-হাদীসে তাওহীদ বলতে বোঝানো হয়েছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ সাক্ষ্যের মর্ম বাস্তবায়ন করা। এটি দ্বীন ইসলামের সারবস্তু, যা দিয়ে আল্লাহ তার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেন। এর প্রমাণ হলো কুরআন-সুন্নাহতে এই শব্দমালা ও পরিভাষাগুলো সমার্থক হিসেবে এবং একটি অন্যটির স্থলে ব্যবহৃত হয়েছে। মুয়ায রাদিয়াল্লাহু আনহুর পূর্বোক্ত হাদীসের কোনো বর্ণনায় রয়েছে: (إِنَّكَ سَتَأْتِي قَوْمًا أَهْلَ كِتَابٍ فَإِذَا جِئْتَهُمْ فَادْعُهُمْ إِلَى أَنْ يَشْهَدُوا أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ) “তুমি আহলে কিতাবের একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। তাদের কাছে গেলে তুমি তাদেরকে এই সাক্ষ্য দিতে আহ্বান জানাবে যে: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল)।”[সহিহ বুখারী (১৪৯৬)]

ইবনে উমরের হাদীসে এক বর্ণনায় আছে: بُنِيَ الإِسْلامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ  অর্থ: “ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত: (প্রথমটি হলো) এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।”[হাদীসটি মুসলিম (১৬) বর্ণনা করেন]

এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, তাওহীদ হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ এই সাক্ষ্যের বাস্তবায়ন। আর এটাই হলো সেই ইসলাম যা দিয়ে আল্লাহ তার নবীকে মানুষ ও জীন জাতির কাছে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের কারো কাছ থেকে এই ধর্ম ছাড়া অন্য কোন ধর্মগ্রহণ করার প্রতি সন্তুষ্ট নন।

মহান আল্লাহ বলেন:

إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الإسلام

“আল্লাহর কাছে ধর্ম হচ্ছে ইসলাম।”[সূরা আলে-ইমরান: ১৯]

আল্লাহ বলেন:

وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإسلام دِيناً فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ

 “কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম চাইলে সেটা তার কাছ থেকে কখনো গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”[সূরা আলে-ইমরান: ৮৫]

তাওহীদের প্রকারভেদ

উপর্যুক্ত আলোচনার পর জেনে রাখুন, আলেমরা তাওহীদকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন, যথা:

তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ, তাওহীদে উলূহিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়াস-সিফাত।

তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ

তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ হচ্ছে: আল্লাহর কর্মগুলোতে তাঁর এককত্ব সাব্যস্ত করা, যেমন: সৃষ্টি, মালিকানা, পরিচালনা, জীবন প্রদান ও মৃত্যু প্রদান প্রভৃতি।

এই প্রকার তাওহীদের পক্ষে কুরআন-সুন্নাহর অনেক দলিল রয়েছে। এমন কিছু দলিল জানতে (13532) নং প্রশ্নোত্তরটি দেখুন।

সুতরাং যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো স্রষ্টা আছে কিংবা আল্লাহ ছাড়া এই জগতের অন্য কোনো মালিক আছে যিনি এ জগত পরিচালনা করছেন তাহলে সেই ব্যক্তি এই প্রকার তাওহীদকে ভঙ্গ করল এবং আল্লাহকে অস্বীকার (কুফরী) করল।

প্রথম যুগের কাফেররা এই প্রকার তাওহীদকে এজমালিভাবে স্বীকার করত, যদিও কিছু খুঁটিনাটি বিষয়ে দ্বিমত করত। তারা যে এই প্রকার তাওহীদের স্বীকৃতি দিত কুরআনের অনেক আয়াত তা প্রমাণ করে, যেমন:

আল্লাহ বলেন:

وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ فَأَنَّى يُؤْفَكُون

“তুমি যদি তাদেরকে প্রশ্ন করো: আসমান ও যমীন কে সৃষ্টি করেছে এবং সূর্য ও চন্দ্রকে কে সেবক বানিয়েছে? তাহলে অবশ্যই তারা বলবে: ‘আল্লাহ’। তদুপরি কীভাবে তাদেরকে সত্য থেকে বিচ্যুত করা হচ্ছে?” [সূরা আনকাবূত: ৬১]

আল্লাহ বলেন:

وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ نَزَّلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَحْيَا بِهِ الأَرْضَ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهَا لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لا يَعْقِلُونَ

“তুমি যদি তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করো: 'কে আসমান থেকে পানি (বৃষ্টি) বর্ষণ করে এবং তার সাহায্যে মৃত (শুষ্ক) ভূমিকে জীবিত (সজীব) করে?' তারা উত্তরে অবশ্যই বলবে: ‘আল্লাহ’। বলো: ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর’। তবে তাদের অধিকাংশই বোঝে না।”[সূরা আনকাবূত: ৬৩]

আল্লাহ বলেন:

وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَهُمْ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ فَأَنَّى يُؤْفَكُون

“যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করো: কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছে, তাহলে তারা অবশ্যই বলবে: ‘আল্লাহ’। তদুপরি কীভাবে তাদেরকে সত্য থেকে বিচ্যুত করা হচ্ছে?”[সূরা যুখরুফ: ৮৭]

এই সকল আয়াতে আল্লাহ বর্ণনা করছেন যে কাফেররা আল্লাহকে স্রষ্টা, মালিক এবং পরিচালক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। তদুপরি তারা এককভাবে তাঁর ইবাদত করে না। এটি তাদের চূড়ান্ত যুলুম, চরম মিথ্যাচার ও দুর্বল বিবেক-বুদ্ধির প্রমাণ। যে সত্তা এই সমস্ত গুণের অধিকারী, যিনি এ সমস্ত কর্ম এককভাবে করেন তিনি ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করা বাঞ্চনীয় নয় এবং অন্য কারো তাওহীদ সাব্যস্ত করা সমীচীন নয়। তারা যে শির্ক করে এর থেকে তিনি সুমহান ও পবিত্র।

সুতরাং যে ব্যক্তি সঠিকভাবে এই তাওহীদকে সাব্যস্ত করে তাওহীদে উলূহিয়্যার স্বীকৃতি দেয়া তার উপর অনিবার্যাভাবে আবশ্যক।

তাওহীদে উলূহিয়্যাহ

তাওহীদে উলূহিয়্যাহ হলো: সকল প্রকার ইবাদতে তথা জাহেরী বা বাতেনী, বাচনিক বা কর্মগত ইবাদতে আল্লাহর এককত্ব সাব্যস্ত করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সব কিছুর ইবাদতকে নাকচ করা, সে যে-ই হোক না কেন। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعۡبُدُوٓاْ إِلَّآ إِيَّاهُ

“তোমার প্রভু আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে।”[সূরা ইসরা: ২৩]

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

وَٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَلَا تُشۡرِكُواْ بِهِۦ شَيۡـٔٗاۖ

“তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করো না।”[সূরা নিসা: ৩৬]

তাওহীদে উলুহিয়্যাহর সংজ্ঞা এভাবেও দেওয়া যায়: "বান্দাদের কর্মের ক্ষেত্রে আল্লাহর একত্ববাদ সাব্যস্ত করা"।

এ তাওহীদের নাম ‘তাওহীদে উলূহিয়্যাহ’ রাখার কারণ হলো যেহেতু এর ভিত্তি হচ্ছে- التأله لله  তথা ভালোবাসা ও সম্মানমিশ্রিত আল্লাহর ইবাদত।

এটাকে توحيد العبادة (তাওহীদে ইবাদাহ)ও বলা হয়। কারণ বান্দা আল্লাহ কতৃক আদেশকৃত বিষয় পালন ও নিষেধকৃত বিষয় পরিহার করার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করে।

এটাকে توحيد الطلب والقصد والإرادة (প্রত্যাশা, উদ্দেশ্য ও ইচ্ছার তাওহীদ)ও বলা হয়। কারণ বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কিছু প্রত্যাশা করবে না, উদ্দেশ্য করবে না ও ইচ্ছা করবে না। বরং একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করে।

এই প্রকারের তাওহীদ প্রতিষ্ঠায় মানুষের বিচ্যুতি ঘটেছে। এ তাওহীদের জন্যই রাসূলরা প্রেরিত হয়েছেন, কিতাব পাঠানো হয়েছে, মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং বিধি-বিধান আরোপ করা হয়েছে। এ তাওহীদ নিয়েই নবীদের সাথে তাদের সম্প্রদায়ের দ্বন্দ্ব হয়েছে। তারপর আল্লাহ অবাধ্যদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছেন এবং মুমিনদেরকে মুক্তি দিয়েছেন।

যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য কোন ইবাদত করার মাধ্যমে এই প্রকারের তাওহীদে বিচ্যুতি ঘটাবে সে মুসলিম মিল্লাত থেকে বেরিয়ে যাবে, ফিতনায় পতিত হবে এবং সঠিক পথ হারাবে। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাই।

তাওহীদুল আসমা-ওয়াস-সিফাত

তাওহীদুল আসমা-ওয়াস-সিফাত হলো: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি কেবল তার জন্য এককভাবে সাব্যস্ত করা। বান্দা এই বিশ্বাস করবে যে আল্লাহর নাম ও গুণাবলিতে তাঁর সদৃশ কেউ নেই। এই প্রকার তাওহীদ দুটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত:

এক: সাব্যস্তকরণ। অর্থাৎ আল্লাহ নিজের জন্য তাঁর কিতাবে কিংবা তাঁর নবী তার বাণীতে যে সকল সুন্দর নাম ও পরিপূর্ণ গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন সেগুলোকে এমনভাবে সাব্যস্ত করা যা আল্লাহর মর্যাদা ও মহত্ত্বের সাথে মানানসই। তবে কোন প্রকার বিকৃতি, অপব্যাখ্যা, হাকীকতকে নাকচকরণ কিংবা আকৃতি নির্ধারণ ব্যতিরেকে।

দুই: পবিত্রকরণ। সকল দোষ-ত্রুটি থেকে আল্লাহর পবিত্রতা সাব্যস্ত করা এবং তিনি নিজের জন্য যে সমস্ত দোষ নাকচ করেছেন সেগুলোকে নাকচ করা। এর প্রমাণ হলো আল্লাহর বাণী:

لَيۡسَ كَمِثۡلِهِۦ شَيۡءٞۖ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡبَصِيرُ 

“তার মতো কোনো কিছু নেই। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।” আল্লাহ নিজেকে সৃষ্টির সদৃশ হওয়া থেকে পবিত্র বলেছেন এবং নিজের জন্য নিজের মর্যাদার সাথে উপযুক্ত পন্থায় পরিপূর্ণ গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন।

সূত্র:

আল-হুজ্জাহ ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (১/৩০৫),

লাওয়ামেউল আনওয়ার আল-বাহিয়্যাহ (১/৫৭)।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।

সূত্র

সূত্র

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

at email

নিউজলেটার

ওয়েবসাইটের ইমেইল ভিত্তিক নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

phone

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব অ্যাপ্লিকেশন

কন্টেন্টে আরও দ্রুত পৌঁছতে ও ইন্টারনেট ছাড়া ব্রাউজ করতে

download iosdownload android