বৃহস্পতিবার 7 জুমাদাল আউওয়াল 1444 - 1 ডিসেম্বর 2022
বাংলা

তার কোম্পানি সুদী ঋণ নেয় না; তবে কোম্পানীতে ১% এর চেয়ে কম সুদী মুনাফা আসে; তিনি কি তার কোম্পানির শেয়ার কিনবেন?

প্রশ্ন

আমি একটি সুইডেনী কোম্পানিতে চাকুরী করি। আমার ফিক্সড বেতন রয়েছে। কোম্পানি তার গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের কাছে কিছু সংখ্যক শেয়ার নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে চায়। অর্থাৎ আমাকে শেয়ারের মূল্যের ২০% পরিশোধ করতে হবে। তবে এই শেয়ারগুলো ৩ বছর রেখে দিতে হবে। এরপর আমি লাভ বা ক্ষতিতে বিক্রি করতে পারব। তারা প্রণোদনা কর্মসূচির অধীনে এই কাজটি করে; যাতে করে কোম্পানিতে চাকুরী করার জন্য কর্মকর্তাদের ধরে রাখা যায়। তবে আমি যদি চাকুরী ছেড়ে দিতে চাই এই কর্মসূচি আমাকে আটকিয়ে রাখবে না। কিন্তু কর্মসূচির মেয়াদ তিন বছর। তিন বছরের আগে আমি লাভ বা ক্ষতি পাব না। কোম্পানিটি হালাল পণ্যের ব্যবসা করে। তাদের উপার্জনে সুদ একেবারেই প্রবেশ না করার মত; ১% এর চেয়ে কম। তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় না। কর্মকর্তাদের কাছে নামমূল্যে শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে তাদের থেকে কোন ফি নেয়া হবে না। এমতাবস্থায় তারা আমাকে যে শেয়ারগুলো কেনার অফার দিচ্ছে আমি কি সেগুলো কিনতে পারি? 

উত্তর

আলহামদু লিল্লাহ।.

যদি কোম্পানি হালাল পণ্য বিক্রি করে, সুদী ঋণ না নেয় এবং সুদী একাউন্টে তাদের অর্থ জমা না রাখে; তাহলে এই কোম্পানির শেয়ার কিনতে এবং এই প্রণোদনা থেকে উপকৃত হতে কোন অসুবিধা নাই

ওয়ার্ল্ড মুসলিম লীগের অধিভুক্ত ‘ফিকাহ একাডেমি’-র ১৪১৫হিঃ মোতাবেক ১৯৯৫খ্রিঃ সালে অনুষ্ঠিত অধিবেশনের সিদ্ধান্তে এসেছে:

১। যেহেতু লেনদেনসমূহের মূল বিধান বৈধতা ও হালাল হওয়া; তাই উদ্দেশ্য-লক্ষ্য ও তৎপরতা হালাল এমন অংশীদারিত্ব ভিত্তিক কোম্পানি গঠন করা শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েয।

২। যে সব কোম্পানির প্রধান উদ্দেশ্য হারাম; যেমন- সুদি লেনদেন, হারাম পণ্য উৎপাদন, হারাম পণ্যের ব্যবসা; সেগুলোর শেয়ার কেনা হারাম এতে কোন মতভেদ নেই।

৩। কোন মুসলিমের জন্য এমন কোন কোম্পানি বা ব্যাংকের শেয়ার কেনা জায়েয নেই যেগুলোর কিছু লেনদেনে সুদ রয়েছে কিংবা হারাম পণ্যের উৎপাদন রয়েছে কিংবা হারাম পণ্যের ব্যবসা রয়েছে।[সমাপ্ত]

আপনি ১% যে সুদের কথা উল্লেখ করেছেন সেটার কারণ ব্যাখ্যা করেননি। খুব সম্ভব সেটি চলতি হিসাবে অর্থ জমা রাখা থেকে উৎপন্ন; যেমনটি কিছু কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। সেটা যেমনিই হোক; বাহ্যতঃ প্রতীয়মান হচ্ছে যে, কোম্পানিটি সুদভিত্তিক অর্থ জমা করে এমনটি বলা যাবে না। কিন্তু এই পার্সেন্টিজ থেকে আপনাকে মুক্ত হতে হবে। কেননা চলতি হিসাবে উপহার হিসেবে যা পাওয়া যায় সেটা হারাম। দেখুন: নং প্রশ্নোত্তর।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব